Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

সিরিয়ায় আসাদের পতন: ইরানের ওপর চাপে বাড়ছে তুরস্কের প্রভাব, ভারতও উদ্বিগ্ন

সিরিয়ায় মাত্র ১২ দিনের বিদ্রোহী অভিযানে বাশার আল-আসাদের ৫৪ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটেছে। আসাদ দেশ ছেড়ে পালিয়ে রাশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। সিরিয়ার এই পরিবর্তন শুধু অঞ্চলটিতে নয়, একাধিক দেশের রাজনীতিতেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।



বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতন ইরানের জন্য বড় ধাক্কা। ইতোমধ্যে বিদ্রোহীরা ইরানি দূতাবাসে হামলা চালিয়েছে, যা ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবের অবনতির ইঙ্গিত দেয়।

দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অশ্বিনী মহাপাত্র বলেছেন, ইরানের মাধ্যমে ভারত মধ্য এশিয়ার বাজারে পৌঁছায়। ইরানে ভারতের চাবাহার বন্দরের প্রকল্প এই অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি বাড়িয়েছে। ইরানের স্থিতিশীলতা হুমকিতে পড়লে ভারতের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।অধ্যাপক আফতাব কমল পাশাও মনে করেন, পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের দুর্বলতা ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ।

ইরানের দুর্বল হওয়া তুরস্কের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে। তুরস্ক ইতোমধ্যে লেবানন ও ইরাকে প্রভাব বিস্তার শুরু করেছে। সিরিয়ায় আসাদের পতনের পর তুরস্কের এই প্রভাব আরও বাড়তে পারে।

তুরস্ক ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। তুরস্ক আজারবাইজানকে সমর্থন করে, আর ইরান সমর্থন করে আর্মেনিয়াকে। নাগোরনো-কারাবাখ সংঘর্ষে তুরস্কের সহায়তায় আজারবাইজানের জয় ইরানের জন্য আরেকটি পরাজয়।

সিরিয়ার পরিস্থিতি থেকে উৎসাহিত হয়ে তুরস্ক জাঙ্গাজুর করিডোর বাণিজ্য রুট নিয়ন্ত্রণের দিকে অগ্রসর হতে পারে। এটি হলে ইরান ককেশাস অঞ্চল থেকে কার্যত বাদ পড়বে।

ইসরাইল ইতোমধ্যে হিজবুল্লাহকে দুর্বল করেছে এবং হামাসের নেতৃত্বে হামলা চালিয়েছে। এসব ঘটনার ফলে পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের অবস্থান আরও দুর্বল হয়েছে।

সিরিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলী পশ্চিম এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। ইরানের দুর্বলতা তুরস্ক ও ইসরাইলের শক্তিশালী হওয়ার পথ প্রশস্ত করেছে। এর ফলে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ